
বেনারসের দশাশ্বমেধ ঘাটে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়! গঙ্গার বুকে লঞ্চে বসে সন্ধ্যারতি দর্শন, আধ্যাত্মিক আবহে মুগ্ধ দেশ-বিদেশের ভক্তরা
বারাণসী: উত্তরপ্রদেশের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন শহর বেনারস। কাশী ও বারাণসী নামেও পরিচিত এই পুণ্যভূমি বরাবরই দেশ-বিদেশের পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। বিশেষ করে গঙ্গার তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী দশাশ্বমেধ ঘাটে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। কেউ আসছেন পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে, কেউ বা গঙ্গার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে, আবার অনেকেই আসছেন জীবনের এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে গঙ্গার বুকে লঞ্চে চেপে সন্ধ্যারতি দেখার জন্য।

দশাশ্বমেধ ঘাটে সকাল থেকেই পর্যটক ও ভক্তদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। গঙ্গার ঘাটজুড়ে চলছে পর্যটকদের ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা এবং পবিত্র গঙ্গার জল দর্শন। পাশাপাশি গঙ্গার বুকে লঞ্চ ও নৌকায় ভ্রমণের জন্যও পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। লঞ্চে বসে গঙ্গার দুই পাড়ের ঐতিহাসিক ঘাট, প্রাচীন মন্দির এবং বারাণসীর পুরনো স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পর্যটকরা। নদীর বুকে ভেসে শহরের ঐতিহ্যকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠছে বিশেষ আকর্ষণ।

বিশেষ করে সন্ধ্যা নামতেই দশাশ্বমেধ ঘাটের পরিবেশ যেন সম্পূর্ণ বদলে যায়। গঙ্গার বুকে সন্ধ্যারতি দেখার জন্য পর্যটক ও ভক্তদের ভিড় আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির অপেক্ষা থাকলেও সেই আবহাওয়ার কথা উপেক্ষা করে বহু মানুষ লঞ্চে চেপে গঙ্গার মাঝখান থেকে সন্ধ্যারতি প্রত্যক্ষ করার জন্য অপেক্ষা করছেন। ঘাটে একদিকে যেমন ভক্তদের সমাগম, অন্যদিকে নদীর বুকে সারি সারি লঞ্চ ও নৌকায় বসে আরতি দেখার দৃশ্য এক অপূর্ব পরিবেশের সৃষ্টি করছে।
সন্ধ্যারতির সময় পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টার আওয়াজ এবং প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে দশাশ্বমেধ ঘাট। গঙ্গার বুকে সেই আরতির প্রতিফলন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। নদীর মাঝখানে লঞ্চে বসে এই দৃশ্য উপভোগ করতে পেরে আপ্লুত পর্যটক ও পুণ্যার্থীরা। অনেকের কাছেই এই অভিজ্ঞতা শুধু ভ্রমণ নয়, বরং এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি।

শুধু উত্তরপ্রদেশ বা পার্শ্ববর্তী রাজ্য নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন বেনারসে ঘুরতে এসেছেন। বিদেশ থেকেও বহু পর্যটক ও ভক্তের সমাগম ঘটেছে এই পুণ্যভূমিতে। বেনারসের ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রাচীন ইতিহাস এবং গঙ্গার ঘাটের সৌন্দর্য বিদেশি পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করছে। তাঁদের অনেককেই গঙ্গার বুকে নৌকা ও লঞ্চে ভ্রমণ করতে এবং ঘাটের বিভিন্ন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা যাচ্ছে।
বাদ যাননি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের পর্যটকরাও। জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ বেনারসে পৌঁছেছেন। গঙ্গা দর্শন, দশাশ্বমেধ ঘাটের সন্ধ্যারতি এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে তাঁরা এসেছেন এই প্রাচীন শহরে। পর্যটকদের কথায়, বেনারসের পরিবেশ ও এখানকার ধর্মীয় আবহ অন্যরকম অনুভূতি এনে দেয়। বিশেষ করে গঙ্গার বুকে লঞ্চে বসে সন্ধ্যারতি দেখার অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকছে।

বেনারসের প্রতিটি ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস। দশাশ্বমেধ ঘাট তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এই ঘাট। কেউ গঙ্গার পাড়ে বসে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ পুণ্যস্নান করছেন, আবার কেউ লঞ্চে চেপে নদীর বুকে ঘুরে দেখছেন প্রাচীন কাশীর অপরূপ সৌন্দর্য।
ধর্মীয় বিশ্বাস, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পর্যটনের অপূর্ব মেলবন্ধন বেনারসকে বরাবরই বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। গঙ্গার ঘাটে মানুষের এই সমাগম যেন আরও একবার প্রমাণ করছে, কাশীর আকর্ষণ আজও অমলিন। আর গঙ্গার বুকে লঞ্চে বসে সন্ধ্যারতির সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন বেনারস ভ্রমণের এক অনন্য স্মৃতি।
সব মিলিয়ে, গঙ্গার পবিত্র জল, ঐতিহ্যবাহী দশাশ্বমেধ ঘাট এবং সন্ধ্যারতির আধ্যাত্মিক পরিবেশে নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বেনারস।