স্বাতী পাল গাঙ্গুলী : আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে রাজ্যের আবহাওয়ায় ফের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক কলকাতার আবহাওয়ার পূর্বাভাস।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে। সকালে আকাশে রোদের দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। দুপুরের পর হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে।
এবার নজর রাখা যাক দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার দিকে।
শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার দু-একটি এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলবর্তী এলাকার কিছু জায়গায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার খবরে।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আজ শনিবার উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হতে পারে।
এই দুই জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতকারী পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার কথা জানানো হয়েছে । পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ ও আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি।
সবশেষে এক নজরে আজকের
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন নিম্নচাপের জেরে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সময় নিরাপদ স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।