রিপোর্ট না এলে চিকিৎসা হবে না, ? “IGM-এ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু স্কুলছাত্রীর, উত্তাল হাসপাতাল”

রিপোর্ট না এলে চিকিৎসা হবে না,” IGM-এ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু স্কুলছাত্রীর, উত্তাল হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, যশপাল সিং, ত্রিপুরা:
আগরতলার ‘স্মার্ট’ IGM হাসপাতালে ফের উঠল চরম চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগ। এবার চিকিৎসকের ‘গাফিলতি’ এবং ‘অমানবিক’ আচরণের বলি হলো রাজধানীর রামকৃষ্ণ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী পাপিয়া সরকার।

“রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চিকিৎসা করা যাবে না”—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই নিদানেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এক সম্ভাবনাময় প্রাণ, এমনটাই অভিযোগ মৃতের পরিবারের। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকালে। জয়নগর দশমীঘাট এলাকার বাসিন্দা পাপিয়া সরকার স্কুলে যাওয়ার পরেই অসুস্থ বোধ করে এবং মাথা ঘুরে পড়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি তাকে IGM হাসপাতালে নিয়ে আসে। পাপিয়ার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসকরা তাকে একটি ইনজেকশন দেন এবং কিছু রক্ত পরীক্ষার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপর থেকেই পাপিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। সে যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, তখন আতঙ্কিত পরিবার বারবার ডাক্তারকে ডাকতে থাকেন। কিন্তু অভিযোগ, ডাক্তার এসে সাফ জানিয়ে দেন, “রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ওর চিকিৎসা করা যাবে না।”
পরিবারের প্রশ্ন, একজন মুমূর্ষু রোগীর ক্ষেত্রে রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করাটা কতটা মানবিক? তাঁদের অভিযোগ, “যখন ও হাসপাতালে এসে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তখন যদি ডাক্তার একবার দেখত, তাহলে হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যেত।” তাঁরা চিকিৎসকের দেওয়া ইনজেকশন নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই IGM হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পাপিয়ার পরিবার-পরিজন ও সহপাঠীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ এবং টিএসআর জওয়ানরা। এই ঘটনা আরও একবার রাজ্যের প্রধান হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং চিকিৎসকদের একাংশের মানবিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।