Tuesday, 28 July, 2026 | কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
Crime Press Bengal
এই মুহূর্তে
সুরের খোলা পাতায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন: এক অনবদ্য মিউজিক অ্যালবাম ‘Khuli Kitaab’ দু’দিন ধরে কীর্ণাহারে চলতে থাকা বিজেপির পণ্ডিত দীনদয়াল উপধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান শেষ হলো রবিবার খোয়াইয়ের মোবাইল ব্যবসায়ীদের তৎপরতায় খেলার মাঠ থেকে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ফিরে পেল প্রকৃত মালিক! চুরির মোবাইল বিক্রি করতে গিয়ে ফাঁদে আটকালো চোর! ত্রিপুরায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ: তাজ পুষ্পবন্ত প্যালেসের ভূমিপূজন ও লঙ্কামুড়া সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের সাথে মতবিনিময়! ক্ষমতার রাজনীতি নয়, সেবার রাজনীতি—তারকেশ্বরে বিধায়কের মানবিক ছবি পরিচয় দিল অনেককিছুর ! ২০ হাজার কিমি নতুন রাস্তা! পথশ্রী–রাস্তাশ্রী

বিলুপ্তির পথে রিকশা

Spread the love

বিলুপ্তির পথে বালুরঘাটের রিকশা, লড়াই জারি কয়েকজন চালকের

বিলুপ্তির মুখে বালুরঘাটের রিকশা: শেষ ভরসা কয়েকজন প্রবীণ চালকের লড়াই

এক সময় বালুরঘাট শহরের গলি-মোড়, অলিগলি—সবখানেই দেখা যেত এক পরিচিত দৃশ্য: হুড-ওয়ালা, গদি দেওয়া তিনচাকার রিকশা আর ঘাম ঝরানো চালকের ক্লান্ত পা। রোগী পরিবহণ হোক বা কলেজ পড়ুয়া যুগলের নিরালা সফর, কিংবা শহরের সিনেমা হলে নতুন পোস্টার টাঙানোর প্রচার—সবেতেই ভরসা ছিল এই রিকশাই।

কিন্তু সময় বদলায়। প্রযুক্তি আসে, নতুন প্রজন্মের পছন্দ-অপছন্দ বদলে যায়। সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বালুরঘাটের রিকশা। যেখানে একসময় প্রায় পাঁচশোর বেশি রিকশা শহরের রাজপথে চলত, আজ তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০-৫০টি-তে। শহরের ট্র্যাফিক লাইনের পাশেও আর দেখা মেলে না সেই পুরনো, কাঠের ছাতাওয়ালা বাহনের।

খিদিরপুরের প্রবীণ রিকশাচালক হরিপদ নট্য বলেন, “আগে দিনে ৫০০-৮০০ টাকা রোজগার হত, এখন কোনও মতে ২০০ টাকা ঘরে আসে।” আরেকজন, ডানলপ মোড়ের টিপু দাস হতাশ কণ্ঠে জানান, “টোটো এসে সব শেষ করে দিল। আধুনিক ছেলেমেয়েরা তো রিকশা চড়তেই চায় না।”

টোটোর দাপটে শহরে আজ আর জায়গা নেই এই পরিশ্রমী বাহনের জন্য। প্রশাসনের তরফ থেকেও নেই কোনও সহযোগিতা, নেই কোনও পুনর্বাসনের বার্তা। ফলে যারা আজও চালিয়ে যাচ্ছেন রিকশা, তারা মূলত লড়ছেন জীবনের সঙ্গে, অস্তিত্বের সঙ্গে, স্মৃতির সঙ্গে।

তবে রবিবারের হাটে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য, অথবা শরীর খারাপ হলে ধীরগতির একটুকরো নিরাপত্তা চাইলে—আজও কিছু মানুষ রিকশার দিকে হাত বাড়ান। তাই শহরের ব্যস্ত রাস্তায় মাঝেমধ্যে দেখা মেলে এক-আধটা রিকশার টুং-টুং ঘণ্টা—যার ছন্দে মিশে আছে বালুরঘাটের অতীত।

এইসব দৃশ্য যেন একটাই কথা বলে—গন্তব্যে পৌঁছলেও, রিকশাচালকদের এই যাত্রাপথ যেন আজও অনিশ্চয়তার, অথৈ জলের যাত্রা।

সম্পর্কিত খবর

একটি মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *