আর্তের সেবায় সদা জাগ্রত, তারকেশ্বরে বিধায়কের শীতবস্ত্র বিতরণ

কলমে- সৌভিক দাস (ডেপুটি এডিটর)
রাজনীতি মানেই কেবল ক্ষমতার অলিন্দে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, রাজনীতির প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তা মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজে আসে। তারকেশ্বর বিধানসভার বিধায়ক রামেন্দ্র সিংহ রায় দীর্ঘদিন ধরেই এই দর্শনকে সামনে রেখে কাজ করে চলেছেন। এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন, বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানো এক নির্ভরযোগ্য অভিভাবকের মতো। সুখে-দুঃখে, উৎসবে কিংবা দুর্যোগে—সব সময়ই তাঁকে দেখা যায় মানুষের পাশে।

তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকায় সারা বছর নানা সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন রামেন্দ্র সিংহ রায়। দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবে নতুন জামাকাপড় বিতরণ হোক বা হঠাৎ কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়, অসুস্থতা কিংবা পারিবারিক সংকট—সব ক্ষেত্রেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিংবা সংগঠনের মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই ধারাবাহিকতারই আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখা গেল সাম্প্রতিক শীতকালীন শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে।
চলতি বছরের শীত যেন আগের তুলনায় আরও বেশি কাঁপুনি ধরিয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে যাঁরা দিন আনে দিন খায়, যাঁদের পক্ষে মোটা কম্বল বা গরম জামাকাপড় কেনা সম্ভব নয়, তাঁদের কাছে এই শীত এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখেই তারকেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত আস্তারা এবং পূর্ব রামনগর গ্রামে একটি বিশেষ শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রামেন্দ্র সিংহ রায় সহ তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মীরা।

গ্রামের খোলা মাঠ কিংবা রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখে ছিল শীতের ছাপ। কিন্তু বিধায়কের হাত থেকে কম্বল ও শীতবস্ত্র পেয়ে সেই মুখগুলোতে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। কয়েক’শো দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয় এই কর্মসূচিতে। অনেকেই জানান, কনকনে ঠান্ডার রাতে এই কম্বল তাঁদের কাছে আশীর্বাদের মতো। কেউ কেউ আবেগে বলেও ফেলেন, এই সহানুভূতি আর যত্ন তাঁদের মনে নতুন করে বাঁচার শক্তি জোগায়।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে বিধায়ক রামেন্দ্র সিংহ রায় বলেন, শীতের সময় গরিব মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি হয়। অনেকেরই গরম জামাকাপড় কেনার সামর্থ্য থাকে না। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের এই কষ্টের কথা মাথায় রেখে পাশে দাঁড়ানোই তাঁর কর্তব্য। তিনি আরও জানান, শুধু এই কর্মসূচিতেই শেষ নয়, শীত যতদিন থাকবে, ততদিন তাঁর প্রচেষ্টা থাকবে যাতে কোনো মানুষ ঠান্ডায় কষ্ট না পান।
স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্যেও উঠে আসে বিধায়কের মানবিক দিকের কথা। তাঁদের মতে, রামেন্দ্র সিংহ রায় কখনোই শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই তিনি উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়া মানুষের ফোন ধরেছেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই কারণেই তাঁর প্রতি মানুষের আস্থা এত দৃঢ়।
আস্তারা ও পূর্ব রামনগর গ্রামের বাসিন্দারাও একই সুরে কথা বলেন। তাঁদের মতে, ভোটের সময় নয়, ভোটের পরেও যাঁকে পাশে পাওয়া যায়, তিনিই প্রকৃত জনপ্রতিনিধি। অনেকেই জানান, কোনো অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা আর্থিক সংকটের সময় বিধায়ক নিজে বা তাঁর দপ্তর থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
এই ধরনের সামাজিক কর্মসূচি শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্যই করে না, বরং মানুষের মনে এক ধরনের মানসিক ভরসাও তৈরি করে। রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থার সময়ে, এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ বিশ্বাস ফেরাতে সাহায্য করে। তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকায় রামেন্দ্র সিংহ রায়ের কাজকর্ম সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকেই।
শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের দিন গোটা এলাকায় ছিল উৎসবের আবহ। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সকলেই উপস্থিত ছিলেন। বিধায়ক প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। অনেকেই সেই সুযোগে এলাকার রাস্তা, আলো, পানীয় জলের সমস্যা তুলে ধরেন। বিধায়ক সেগুলি নোট করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এই সরাসরি যোগাযোগই তাঁর কাজের ধরনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
সুতরাং, তারকেশ্বর বিধানসভায় রাজনীতি মানে কেবল পোস্টার, মিছিল কিংবা বক্তৃতা নয়, রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। রামেন্দ্র সিংহ রায়ের শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি তারই এক বাস্তব উদাহরণ। কনকনে শীতে কম্বলের উষ্ণতার সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগ মানুষকে যে মানবিক স্পর্শ দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো। তারকেশ্বরের মানুষের কাছে তাই তিনি শুধু বিধায়ক নন, ভরসা ও আশার এক পরিচিত নাম।