অভাব, প্রতিকূলতা আর সীমাহীন বাধা—এই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তবু স্বপ্ন দেখেছিল সে, আর সেই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে লড়ে গিয়েছে প্রতিটি মুহূর্তে। আর আজ, সেই স্বপ্নের ঠিকানা স্পষ্ট—ডাক্তার হওয়ার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের মেয়ে বিদিশা বর।

বাবা পেশায় রিকশাচালক
NEET -এ চোখ ধাঁধানো ফল মেয়ের
কীভাবে এল এই সাফল্য?
শুনলে অবাক হবেন আপনিও
বাবা পেশায় রিকশাচালক। মা গৃহবধূ। কিন্তু, মেধাবী মেয়েটা কখনও জেদ ছাড়েনি পড়াশোনার প্রতি। তিলে তিলে গড়ে তুলেছে নিজেকে। এগিয়ে গিয়েছে নিজের লক্ষ্যে। আর তারপরেই এসেছে সাফল্য। সর্বভারতীয় মেডিক্যাল পরীক্ষায় চোখ ধাঁধানো র্যাঙ্ক করে সে এখন সবার নজরে। মেয়ের এই সাফল্যে আবেগ-আপ্লুত বাবা-মা। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কীভাবে সফলতা ছিনিয়ে নিল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েটি? আজকের ভিডিওতে বলবো সেই কথাই। ভিডিওটির শেষ পর্যন্ত সঙ্গে থাকুন…
নাম বিদিশা বর। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের মেয়ে।অভাব, প্রতিকূলতা আর সীমাহীন বাধা, এই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তবু স্বপ্ন দেখেছিল সফলতার। লড়ে গিয়েছে প্রতিটি মুহূর্তে। আর আজ সেই স্বপ্নের ঠিকানা স্পষ্ট। চিকিৎসা পেশা হাতছানি দিচ্ছে তাকে।
সুন্দরবনের এক কোণায়, বাঁশতলা গ্রামের অতি সাধারণ এক পরিবারে জন্ম বিদিশার। বাবা কলকাতায় রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। একটি মাত্র ঘরের মধ্যে মা-বাবা আর তার সংসার। পড়ার কোনও নিরিবিলি পরিবেশ নেই, নেই আলাদা পড়ার টেবিল কিংবা নিটের জন্য কোচিং করার সামর্থ্য। তবুও থেমে যায়নি বিদিশার লড়াই।
বিদিশা বলছে, “অনেক সময় বাড়িতে মন বসাতে পারিনি। তখন পুকুরপাড়ে গিয়ে বসতাম, কখনো মাঠের এক কোণে। মাথায় শুধু একটা কথাই ছিল—আমাকে ডাক্তার হতে হবে। কারণ আমাদের মতো গ্রামের মানুষদের চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হয়। আমি চাই, এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে।”
জানেন, কোনো কোচিং সেন্টারের ক্লাস নয়, ইউটিউবের ভিডিওই ছিল তার শিক্ষক। প্রখর ইচ্ছাশক্তি আর নিজের উপর অগাধ বিশ্বাসই ছিল তার আসল পুঁজি। আর আজ, সেই অদম্য মেয়েটিই নিট পরীক্ষায় সাফল্য পেয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে—স্বপ্ন বড় হলে, পরিস্থিতি নয়, জেদই সবকিছু। বিদিশার সাফল্য শুধু তার নিজের নয়—এই জয় গোটা সুন্দরবনের, এই জয় সেই সব মেয়েদের যাদের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে শুধু সাহস আর সাধনায়।